দেখুন কি ভাবে দুই প্রেমিক-প্রেমিকা এই দুনিয়া ছেড়ে গেলো


*****

******একটি ছেলে একটি মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসতো ।

রোজ তার জন্য ছেলেটি রাস্তায় অপেক্ষা করত এক পলক

দেখার জন্য । মেয়েটি প্রতিদিন ছেলেটির বাসার সামনে দিয়ে হেটে

স্কুলে যেত । আর ছেলেটি মেয়েটির জন্য দাঁড়িয়ে থাকত ।

ছেলেটি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর সময় মেয়েটির কথা ভাবতো ।

একদিন ছেলেটি ভাবে অনেক দিন হলো আজ মেয়েটিকে যে ভাবে হোক

মেয়েটিকে আমার মনের কথা বলতেই হবে ।
কিন্তু যখন মেয়েটিকে আসতে দেখে তখন সে মেয়েটিকে
উদ্দেশ্য করে এগিয়ে যেতে থাকে । কিন্তু ততক্ষণে মেয়েটি অনেক সামনে চলে যায় ।
কিন্তু যে ভাবেই হোক আজ মেয়েটিকে আমার মনের কথা বলতেই হবে ।
এই যা কিন্তু কিভাবে বলব মেয়েটি তো অনেক সামনে চলে গেছে ।
এখন কি হবে মেয়েটির তো নাম ই জানা হয় নাই ।
এখন ছেলেটি ঠিক করে মনের কথা পরে বলব ।
আগে মেয়েটির নাম জানতে হবে ।
এবার ছেলেটি মেয়েটির নাম জানতে পারে ।
এই যা মেয়েটির নামই তো বলা হল না ।
মেয়েটির নাম বরষা আর ছেলেটির নাম হল আকাশ ।
অনেক কষ্টে আকাশ মেয়েটির নাম জানতে পারে ।
এখন আকাশ বরষাকে তার মনের কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছে ।
কিন্তু বরষা আর সেদিন এলো না ।
আকাশের মন খারাপ হয়ে গেলো ।
আকাশ বাসার দিকে যাবে তখন হঠাত পিছন থেকে একটা ডাক আকাশ এই আকাশ,
আকাশ দাঁড়িয়ে পড়ল , আকাশ পিছু ঘুরতেই দেখে বরষা আকাশের দিকে ছুটে আসছে ,
কিন্তু একি আকাশও বরষার দিকে ছুটে গেলো ।


আর তখনি এক পলকে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেলো ,
আকাশ রাস্তায় পড়ে আছে আর বরষা তার বুকের উপর ।

চার দিক থেকে এবার মানুষজন দৌড়ে এসে দ্রুতো তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায় ।

দুই দিন পর বরষার জ্ঞান ফেরে ।

বরষা চোখ মেলেই আকাশকে খোজে কিন্তু সবাই চুপ হয়ে থাকে ।
এইবার বরষা চীৎকার করতে শুরু করে ।
এইবার আকাশের মা আর কান্না  চেপে রাখতে পারে না ।
আকাশের মা বরষাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে ।
বরষার আর বুঝতে বাকি থাকলো না সবার চুপ থাকার কারন ।
এইবার বরষা পাগলের মতো কান্না শুরু করে দেয় ।
সবাই বরষার কান্না দেখে বরষাকে আকাশের কবরের কাছে নিয়ে যায় ।
এইবার বরষা আকাশের কবরের উপর পড়ে কাঁদতে কাঁদতে জানতে চায় কিভাবে এই সব হল ।

^

[৩ দিন আগের সেই দুর্ঘটনার দিনের কথা বলছি ,
বরষার অপেক্ষায় যখন আকাশ দাঁড়িয়ে ছিল ,
তখন বরষাও এসেছিলো কারন বরষাও আকাশকে ভালোবাসতো ,
বরষাও ঠিক করে ছিল আকাশকে তার মনের কথা জানাবে ।
তাই বরষা আগের দিনে যে সময় আসতো সেদিন অনেক আগে চলে আসে আর
আকাশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে ।
যখন আকাশকে বাসা থেকে বের হতে দেখে তখন বরষা আড়ালে লুকিয়ে দাড়ায় আর
ভাবে আজ একটু আকাশকে দুচোখ ভরে দেখব তারপর গিয়ে বলব ।
কিন্তু ততক্ষণে আকাশ বরষাকে না দেখতে পেয়ে যখন বাসার দিকে যেতে থাকে তখন
পিছন থেকে বরষা আকাশ আকাশ বলে আশেপাশের কিছু খেয়াল না করেই দৌড়াতে থাকে ।
বরষা যখন রাস্তার মাঝামাঝি চলে এলো ঠিক তখনই আকাশ বরষার ডাক খেয়াল
করে পিছন ঘুরতেই দেখে বরষার দিকে একটি বাস খুব দ্রুতো এগিয়ে আসছে ।
আকাশ বরষার কাছে দৌড়ে গিয়ে বরষাকে একটা ধাক্কা মেরে নিজেই বাসের নিচে পড়ে ।
আর বরষাকে ধাক্কা মারার সাথে সাথে বরষা খুব জোরে একটা খাম্নার উপর গিয়ে মাথায় আঘাত পায়
আর উল্টো এসে আকাশের বুকের উপর পড়ে ।
হাসপাতালে নিতে নিতে আকাশ মারা যায় ।]

^

সব কিছু যখন বরষার মনে পড়ে যায় , , , , , ,

^

তখন বরষা খুব জোরে একটা চীৎকার করতে করতে কিছুক্ষন পর থেমে যায়
তখন বরষার মা ভাবে এইবার বরষাকে নিয়ে যাবে আবার হাসপাতালে
এই ভেবে যখন বরষাকে ধরে আর বরষা আকাশের কবরের উপর পড়ে যায় ।

^

তখন বরষার মা বুঝতে পারে যে বরষা তাদের সবাইকে চিরোদিনের
জন্য ছেড়ে আকাশের কাছে চলে গেছে ।

^

এই ভাবে মারা গেলো দুই প্রেমিক-প্রেমিকা ।
চলে গেলো এই পৃথিবী ছেঁড়ে কিন্তু রেখে গেলো
তাদের স্মৃতি । ********
*
*
*
*
*
আসলেই ভালোবাসার মানুষ মরে গেলেও ভালোবাসা কখনোই মরে না ...।
^

^

^

^

^

^
< ভালোবাসা অমর >




মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

দেখুন ভালোবেসে কেনো এভাবে কাঁদতে হলো ছেলেটিকে